ঘাতকের বাসা থেকে নিখোঁজের তিনদিন পর স্কুল ছাত্রীর গলিত লাশ উদ্ধার

সিটিজি ভয়েস ডেস্ক:

নিখোঁজের তিনদিন পর অবশেষে হাটহাজারীর স্কুল ছাত্রী তাছনীম সুলতানা তুহিন (১৩)র অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ। গতকাল রবিবার রাত নয়টায় হাটহাজারী পৌরসভার একটি ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে তুহিনের অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যার অভিযোগে মুন্না নামের এক যুবককেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে ধর্ষনে ব্যার্থ হয়ে স্কুলছাত্রী তুহিনকে হত্যা করে ঘাতক মুন্না৷ নিহত স্কুল ছাত্রী তাছনীম সুলতানা তুহিন হাটহাজারী গালর্স হাই স্কুল এন্ড কলেজের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী ও একই ভবনের নিচ তলায় বসবাসকারী আবু তৈয়বের কন্যা।

এ ব্যাপারে হাটহাজারী মডেল থানার পুলিশ সূত্র জানায়, স্কুলছাত্রীটিকে উদ্ধার অভিযানের এক পর্যায়ে পৌর এলাকার শাহজালাল পাড়ার সালাম ম্যানশনের চতুর্থ তলার ভাড়াটিয়া শাহনেওয়াজ মুন্না (২২) কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত মুন্না স্কুলছাত্রী তুহিনকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তাদের বাসার সোফার নিচ থেকে বস্তাবন্দী তুহিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেফতার হওয়া মুন্না ওই ভবনের চতুর্থ তলার ভাড়াটিয়া ডা. শাহজাহান সিরাজের ছেলে এবং সে ইয়াবাসক্ত বলে স্থানীয়রা জানায়।

নিহত তুহিনের মামা এরশাদ মাসুম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, তুহিনের মা-বাবা উভয়ই বর্তমানে পবিত্র হজ্ব পালনের জন্য সৌদি আরব অবস্থান করছেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রাইভেট শিক্ষক তুহিনকে পড়াতে আসেন। এসময় ভবনের নিচ তলা থেকে ২য় তলায় পড়তে যাওয়ার কথা থাকলেও সে যায়নি। পরে অনেক খোঁজাখুজি করে তাকে পাওয়া না যাওয়ায় হাটহাজারী মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরী করা হয়। তুহিন নিখোঁজের পর থেকে ঘাতক মুন্নার আচরন সন্দেহজনক হওয়ায় মুন্নাকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেই সাথে তুহিন নিখোঁজের দিন (শুক্রবার) রাতে মুন্নার বাবা মা বাসায় না থাকায় মুন্নার প্রতি সন্দেহ আরো বাড়তে থাকে। অবশেষে গতকাল সন্ধ্যায় হাটহাজারী থানা পুলিশের লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মুন্না পুলিশের নিকট তুহিনকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনা স্বীকার করে। ধারণা করা হচ্ছে ধর্ষনে ব্যর্থ হয়ে মুন্না তুহিনকে হত্যা করে।

নিহত তুহিনের মামা এরশাদ মাসুম আরো বলেন, আমার ভাগনীর খুনিদের উপযুক্ত শাস্তি দাবী করছি। খুনি যেন আইনের ফাঁক ফোরক দিয়ে ছাড়া না যায় সে দাবী জানাই।

হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, তুহিনকে হত্যাকারী মূল আসামী মুন্নাকে আমরা গ্রেফতার করেছি। প্রাথমিক ভাবে মনেহচ্ছে ধর্ষনে ব্যর্থ হয়ে মুন্না তুহিনকে হত্যা করেছে। এর সাথে অন্য কেউ জড়িতে থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

মতামত