আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে চট্টগ্রামে শোকের ছায়াঃ দাফন মায়ের কবরের পাশেই

না ফেরার দেশে চলে গেলেন সংগীতাঙ্গনের কিংবদন্তি, জনপ্রিয় ব্যান্ডদল এলআরবি’র লিড গিটারিস্ট ও ভোকাল আইয়ুব বাচ্চু দেশের ব্যান্ড সঙ্গীতকে পথ দেখানো কিংবদন্তিতুল্য এই সংগীত শিল্পী বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর)  হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।
১৯৬২ সালের ১৬ই আগস্ট চট্টগ্রাম নগরীর স্টেশন রোডের এনায়েত বাজারে আইয়ুব বাচ্চুর জন্ম।
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ১৭নং খরনা ইউপির ৫নং ওয়ার্ডের মরহুম হাজী নুরুজ্জামা সওদাগরের দৌহিত্র, মোহাম্মদ ইসহাক ও মৃত নুরজাহান বেগমের প্রথম সন্তান আইউব বাচ্চু, তিন ভাইয়ের মধ্যে সকলের বড় তিনি।
আইউব বাচ্চুর বড় মেয়ে থাকেন অস্ট্রেলিয়া, ছেলে কানাডায়। দুইজনেই আসছেন বাবার মুখটি শেষবার দেখতে।
আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম জানাজা আগামীকাল শুক্রবার বাদে জুমা হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ইদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার চট্টগ্রামের এনায়েতবাজার মহিলা কলেজের পাশে পৈত্রিক বাড়িতে আনা হবে তাকে।
নগরের স্টেশন রোডের এনায়েত বাজারে জন্ম ও বেড়ে ওঠা কিংবদন্তির শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর। স্টেশন রোডের চৈতন্য গলিতে মায়ের কবরের পাশেই যাতে কবর দেওয়া হয় সেটাই কামনা ছিল তার। সব কিছু ঠিক থাকলে ওই কবরস্থানেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তিনি।
আইউব বাচ্চুর চাচা (পিতার চাচাত ভাই) আবদুল আজিজ জানান, কোরবানির ঈদে এসেছিলেন আইউব বাচ্চু সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করে চলে যান।
তিনি আরো জানান ২০০৪ সালে উনার মা মারা যাওয়ার পর থেকে চট্টগ্রামে এলে নানার বাড়িতেই ছুটে আসতেন। তখনও বলে যান, মৃত্যুর পরে যেন চট্টগ্রামের মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
আইউব বাচ্চুর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চট্টগ্রামের শুভানুধ্যায়ী ও ভক্ত-অনুসারীদের মাঝে।বাকরুদ্ধ কণ্ঠেই স্মৃতিচারণ করে বাচ্চুর ছেলেবেলার বন্ধু আমিন চৌধুরী বলেন, একসাথে কত আড্ডা মেরেছি। একসাথে ক্রিকেট খেলেছি। তাদের বাড়ির দোতলায় তার গিটারের টুং-টাং শব্দে মুখর থাকতো পাড়া। আমরা আমাদের সঙ্গীতাঙ্গনের অনেক বড় সম্পদ হারিয়েছি।

মতামত