কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের ৮০ জন মনোনয়ন নিলেও নেননি ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া

আবদুল আউয়াল জনি, সিটিজি ভয়েস:

ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, স্বাধীন বাংলাদেশে বাঙালি বৌদ্ধদের মধ্যে সর্বপ্রথম এবং একমাত্র ব্রিটিশ কোয়ালিফাইড ব্যারিস্টার। পাশাপাশি বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের উপ-দপ্তর সম্পাদক তিনি। অনেক পরিচয় ছাড়িয়ে দলের জন্য একজন নিবেদিত প্রাণ, ত্যাগী, কর্মীবান্ধব ও বিনয়ী নেতা হিসেবে পরিচিতি তার।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার বড়হাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও সাতকানিয়া আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সুনীল কান্তি বড়ুয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। ১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি জন্ম নেয়া বিপ্লব বড়ুয়া যুক্তরাজ্যের উল্ভারহ্যাম্পটন ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। যুক্তরাজ্যের সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে বার ভোকেশনাল কোর্স (পিজিডিএল), যুক্তরাজ্যের কল টু দ্যা বার ‘দ্যা অনারেবল সোসাইটি অব গ্রেস ইন’ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাধীন বাংলাদেশে বাঙালি বৌদ্ধদের মধ্যে সর্বপ্রথম এবং একমাত্র ব্রিটিশ কোয়ালিফাইড ব্যারিস্টার।

ছাত্রজীবনে সক্রিয় ছিলেন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে। সাতকানিয়া সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক, সাতকানিয়া থানা ছাত্রলীগের এডহক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এমনকি দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্রলীগ সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বিপ্লব বড়ুয়া। ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য।

২০১৬ সালের ২৯ আগস্ট ঘোষিত আওয়ামী লীগের ৮১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে চট্টগ্রামের লোহাগড়ার কৃতী সন্তান ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াকে সদস্য ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে তরুণ এই নেতাকে পদোন্নতি দিয়ে উপ-দপ্তর সম্পাদক ঘোষণা করা হয়।

দলের সুসময়ে সবাই যখন নৌকার মনোনয়ন নিয়ে এমপি ও মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর তখন তিনি শতশত নেতার মাঝেও কেন ব্যতিক্রমী সেটার পরিচয় দিলেন তার কর্মে। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের ৮১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের ৮০ জনই আওয়ামীলীগের মনোনয়ন ফরম নিলেও নেননি দলের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

বর্তমান মন্ত্রী-সাংসদদের বাইরে এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা বেশির ভাগই বয়সে তরুণ। যাদের বড় অংশ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। ব্যবসায়ীও আছেন অনেকে। ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নপ্রাপ্তির এই দৌড়ে দলের লোকজনের পাশাপাশি ক্রীড়াবিদ, অভিনয়শিল্পী, সামরিক-বেসামরিক সাবেক আমলারাও আছেন। এমন অবস্থায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে বিপ্লব বড়ুয়া মনোনয়ন আশা করতেই পারেন। কিন্তু তাঁর মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ না করার বিষয়টি নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত কোন্দল একটা বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। কেউ মনোনয়ন চাইলে একই আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্যদের বিরাগভাজন হতে হচ্ছে, এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবাঞ্ছিত ঘোষণার ঘটনাও ঘটছে। এমন পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য বিপ্লব বড়ুয়া মনোনয়ন চাননি হয়তো। সবচেয়ে বড় বিষয় নির্বাচনের জন্য এখনো নিজেকে প্রস্তত ভাবছেন না নতুন প্রজন্মের এই নেতা।

জানতে চাইলে ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, দুটি কারণে আমি মনোনয়ন ফরম নিইনি৷ প্রধানমন্ত্রী আমাকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে রেখেছেন। এটা অনেক বড় সম্মান ও স্বীকৃতির ব্যাপার। নির্বাচন তারাই করতে পারে যাদের প্রবল জনভিত্তি আছে। আমার আসনে (সাতকানিয়া লোহাগাড়া) অনেকেই আছেন যারা দীর্ঘদিন ধরে এমপি হবার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের অনেক বিনিয়োগ রয়েছে। ওনারা আমার অনেক সিনিয়র। সবাই যদি নির্বাচন করে, তাহলে নির্বাচন পরিচালনার কাজ করবে কারা? কেন্দ্রীয় কমিটির প্রায় সবাই নির্বাচন করবেন। এসময় দলীয় কার্যালয়ে অনেক কাজ থাকবে। এই কাজগুলো করার জন্য তো লোকজন দরকার।

বিপ্লব বড়ুয়া আরো বলেন, আমাদের দেশে এক ব্যক্তি একাধিক পজিশন ভোগ করেন। এমপিও থাকেন, মন্ত্রীও থাকেন দলের নেতাও থাকেন। দলে অনেক যোগ্য লোক রয়েছেন। আমরা প্রতিটি জায়গায় যোগ্য লোকদের বসাতে চাই। এক লোক যে সব কিছু পাবে, সব কিছু খাবে তা আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি না। এসব কারণে আমি মনোনয়ন নিইনি। তবে তিনি নিজে ছাড়াও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পারভীন জামান কল্পনা, ডা. রোকেয়া সুলতানা মনোনয়ন নেননি বলে জানান ব্যারিস্টার বিপ্লব।

ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার জনভিত্তি না থাকার বিষয়টিকে উনার বিনয় ও দলের জন্য নিবেদিত হওয়া ছাড়া আর কিছু নয় বলে মন্তব্য করেছেন, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন হীরু, তিনি সিটিজি ভয়েসকে বলেন, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন, তৃনমূল থেকে পর্যায়ক্রমে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের উপ-দপ্তর সম্পাদক মনোনিত হওয়ার মাধ্যমে জননেত্রী শেখ হাসিনার আস্থার স্থলে পরিণত হয়েছেন, উনার প্রতি সাতকানিয়া-লোহাগাড়া সহ সারা দেশের নেতাকর্মীর ভালবাসা ও সম্মান রয়েছে, তেমনি এলাকায় উনার জনপ্রিয়তারও কমতি নেই।

লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আজিজুর রহমান সিটিজি ভয়েসকে বলেন, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার জনভিত্তি কতটুকু সেটা আমরা দলের তৃনমূলের নেতাকর্মীরা বেশী জানি, তিনি মুলত বিনয় ও দলের প্রতি নিবেদিত হওয়ার কারণেই মনোনয়ন নেননি বলে আমাদের ধারণা।

সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন চৌধুরীর কাছে ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার জনভিত্তি না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সিটিজি ভয়েসকে বলেন, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া সাতকানিয়া সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক, সাতকানিয়া থানা ছাত্রলীগের এডহক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন, এমনকি দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্রলীগ সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন, ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য, এত পরিচয়ের বাইরে তিনি দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের উপ-দপ্তর সম্পাদক। উনি আমাদের দলের নেতাকর্মী সহ সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার জনতার মাঝে কতটুকু জনপ্রিয় সেটা বলে বুঝানো সম্ভব নয়। তিনি নৌকার মনোনয়ন সংগ্রহ না করে উনার প্রতি জননেত্রী শেখ হাসিনার আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন বলে মনেকরি। আমার বিশ্বাস দলের ও নেত্রীর প্রতি উনার এই সম্মানের প্রতিদান আগামীতে জননেত্রী শেখ হাসিনা দিবেন।

 

মতামত