চিন্তা, মনন ও কর্মে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করতে হবে: ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া

আবদুল আউয়াল জনি, সিটিজি ভয়েস টিভি:

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের আত্মজিজ্ঞাসা প্রয়োজন, তিনি যে সোনার বাংলা ও দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন আমরা কতটা পূরণ করতে পেরেছি? তাঁর স্বপ্ন ছিল শোষণমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। শুধু আনুষ্ঠানিকতার বৃত্তে বন্দী না থকে চিন্তা, মনন ও কর্মে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ ও তা বাস্তবায়ন করতে পারলেই তাঁর আরাধ্য সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

৭ই আগস্ট নারায়ণগঞ্জ বিদ্যা নিকেতন হাই স্কুল আয়োজিত জাতির জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, আবৃতি, সংগীতানুষ্ঠান ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

এসময় তিনি আরো বলেন, ১৫ আগস্ট মানবসভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের কালিমালিপ্ত বেদনাবিধূর শোকের দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে মানবতার শত্রু প্রতিক্রিয়াশীল ঘাতকচক্র নির্মমভাবে বাঙালি জাতির মুক্তি আন্দোলনের মহানায়ক ও বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে। কালরাতে ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামাল, মেজ ছেলে শেখ জামাল। শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ জামালের স্ত্রী রোজী জামালও খুন হন তাদের হাতে। ঘাতকের হাত থেকে রক্ষা পায়নি ছোট্ট শিশুও। সেই রাতে বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলে শেখ রাসেলকেও হত্যা করে ঘাতকরা। বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসেরও রক্ষা পাননি ঘাতকদের হাত থেকে।

কেন কুচক্রীরা সেদিন বঙ্গবন্ধুকেই আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করেছিল? এটি নিছক ব্যক্তিবিশেষের হত্যাকাণ্ড ছিল না; ছিল জাতির অস্তিত্বের ওপর আঘাত। এর মাধ্যমে যে নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই নীতি ও আদর্শকেই ঘাতকেরা হত্যা করতে চেয়েছিল। তারা প্রথম সুযোগে রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি বিসর্জন দেয়, বাংলাদেশ বেতারের নাম পরিবর্তন করে পাকিস্তানি ধারায় এর নামকরণ করে রেডিও বাংলাদেশ। সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা মুছে ফেলে।

১৫ আগস্টের কুচক্রীরা বেশি দিন ক্ষমতায় থাকতে না পারলেও তারা রাষ্ট্রব্যবস্থায় যে ক্ষত তৈরি করেছিল, তার রেশ এখনো রয়ে গেছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি কাশেম হুমায়নের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ের সমন্বয়কারী ড. সেলিম মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিক, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু।

মতামত