‘আপনি কোনও ভাষা চাপিয়ে দিতে পারেন না’ রজনীকান্ত

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:

হিন্দি ভাষার মাধ্যমেই ভারতেকে ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব তাই ভারতের জাতীয় ভাষা হোক হিন্দি, অমিত শাহের এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে পুরো ভারতে।

কোনও ভাষাই চাপিয়ে দেওয়া যাবে না, সুপারস্টার রজনীকান্ত হিন্দি নিয়ে অমিত শাহের মন্তব্যের বিরোধিতা করেন। হিন্দি ভাষার মাধ্যমেই দেশকে ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব তাই জাতীয় ভাষা হোক হিন্দি, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দেশজুড়ে প্রতিবাদের কণ্ঠ ক্রমশই জোরালো হচ্ছে। এবার সেই প্রতিবাদী কণ্ঠের দলে যোগ দিলেন থালাইভাও।

চেন্নাইয়ে রজনীকান্ত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘কোনও ভাষাই জোর করে আরোপ করা যাবে না। দক্ষিণ ও উত্তরের রাজ্যগুলি কিছুতেই একটি সাধারণ ভাষা গ্রহণ করবে না। একটি সাধারণ ভাষা একটি দেশের উন্নয়নের জন্য ভাল তবে দুর্ভাগ্যক্রমে, ভারতে কোনও একটি নির্দিষ্ট ভাষাকে সাধারণ ভাষা হিসাবে গণ্য করা সম্ভব নয়।’

হিন্দিকে ভারতের জাতীয় ভাষা হিসাবে গড়ে তোলার বিষয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্যকে অনেকেই অ-হিন্দিভাষী রাজ্যগুলিতে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার দিল্লীর চাল হিসাবে দেখেছে।

গত শনিবার জাতীয় হিন্দি দিবসে দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই ভাষার মাধ্যমেই ভারতকে একসূত্রে বাঁধার আহ্বান জানান। তিনি বলেন যে দেশের সর্বাধিক কথিত ভাষা হল হিন্দি। আর এই ভাষা দেশের মানুষের মধ্যে একতা তৈরির ক্ষমতা রাখে। অমিত শাহ একথাও স্বীকার করে নেন যে ভারত বহু ভাষাভাষীর মানুষের দেশ এবং প্রতিটি ভাষারই নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে। তবে তার মধ্যেই হিন্দিকে দেশের জাতীয় ভাষা হিসাবে ঘোষণা করার প্রস্তাব রাখেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অমিত শাহ হিন্দি দিবসে টুইট করে ওই প্রস্তাব দেন।

কমল বলেন, ‘‘ভারতের প্রজাতন্ত্র গঠনের সময় বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এখন কোনও শাহ, সুলতান বা সম্রাট সেই প্রতিশ্রতিকে ভাঙতে পারবেন না। জালিকাট্টু কেবল একটা প্রতিবাদ ছিল। ভাষার জন্য আমাদের যুদ্ধ তার চেয়ে অনেক অনেক বড় হবে। ভারত বা তামিলনাডুর এমন যুদ্ধের কোনও প্রয়োজন নেই। আমরা সব ভাষাকেই সম্মান করি। কিন্তু মাতৃভাষা সব সময়ই তামিল থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের অধিকাংশই আনন্দের সঙ্গে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত দায় যা বাংলায় লেখা। কারণ, যে কবি এটি লিখেছে‌ন তিনি সমস্ত ভাষা ও সংস্কৃতিকে সম্মান করেই লিখেছেন। তবেই সেটা আমাদের জাতীয় সঙ্গীত হয়েছে।’

এদিকে বাংলার বিভিন্ন ক্ষেত্রের ৫০ জন উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বও রাজ্যের মানুষকে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে ওঠার আহ্বান জানান। ফেসবুকে তাঁরা সকলকে অনুরোধ করেন বাংলা ভাষাকে তাঁদের জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার যে কোনও প্রয়াসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হতে। এই ব্যক্তিত্বদের মধ্যে ছিলেন কবি সুবোধ সরকার, কবি-গদ্যকার বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়, আবৃত্তিকার ঊর্মিমালা বসু ও জগন্নাথ বসু, স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য।

সূত্র: এনডিটিভি

মতামত