সাতকানিয়ায় পাহাড় কেটে ইট তৈরি দেখেই হতভাগ দুদক কর্মকর্তারা!

আবদুল আউয়াল জনি, সিটিজি ভয়েস টিভি: 

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পশ্চিম অঞ্চলের এলাকায় ইট-ভাটা স্থাপন আইন অমান্য করে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর একটি তদন্ত টিম পাহাড়ের পাদদেশে ইট-ভাটা স্থাপিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারী)  বিকেলে সাতকানিয়া-বাঁশখালীর সীমান্ত এলাকা উপজেলার এঁওচিয়া ইউনিয়নের চুড়ামনি-লটমনি এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা ইট-ভাটাগুলো দুদক চট্টগ্রামের একটি টিম তদন্ত নেমেছেন। গতকাল এ তদন্ত টিম অভিযুক্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তদন্তে প্রাপ্ত অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলে দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জানা যায়, উপজেলার এঁওচিয়া ইউনিয়নের চুড়ামনি-লটমনি এলাকাটি সাতকানিয়া-বাঁশখালী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। উল্লিখিত এলাকাগুলোতে এক সময় ছিল বিশাল বিশালপাহাড় ও টিলা। বিগত প্রায় ১৫ বছর আগে কয়েকজন ব্যবসায়ী ওই এলাকাগুলোর পাহাড়ের পাদদেশে ইট-ভাটা স্থাপনের আইন কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্থাপন করে ইট-ভাটা। প্রাথমিক অবস্থায় ড্রাম চিমনি দিয়ে ভাটা স্থাপন করে শুরু করে ইট তৈরির কার্যক্রম। পরবর্তীতে ইট দিয়ে তৈরি করে চিমনি। নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে অবৈধ ইট তৈরির কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করার কথা থাকলেও ইট-ভাটার মালিকরা তাদের ম্যানেজ করে বছরের পর বছর চালিয়ে যায় ইট তৈরির কাজ। মাঝে মাঝে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন আই ওয়াসের মত অভিযান চালালেও প্রশাসন চলে যাওয়ার পর পুনরায় তাদের (প্রশাসন) আরো দ্বিগুন টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে পরবর্তীতে আবার শুরু করে ইট তৈরির কার্যক্রম। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো-এ ইট তৈরিতে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে পাহাড়ের মাটি। জ্বালানীও হচ্ছে বনের কাঠ। এভাবে পাহাড়ের মাটি ও কাঠ ব্যবহারের ফলে অনেকটা নিশ্চিহ্নের পথে ওই এলাকার পাহাড় ও সরকারি বেসরকারিভাবে সৃজিত মূল্যবান ফলজ ও বনজ বাগান। ফলে মারাত্বকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র।

বিগত জানুয়ারী মাসে পাহাড় কেটে সাবাড় করে ইট তৈরি হচ্ছে-এমন একটি অভিযোগ পায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম-২ এর কার্যালয়। এরই প্রেক্ষিতে অভিযোগের সত্যতা খোঁজার জন্য দুদকের একটি তদন্ত টিম চুড়ামনি-লটমনি এলাকা গতকাল বিকালে পরিদর্শনে যান। তদন্ত টিমের প্রধান ছিলেন, দুদক চট্টগ্রাম-২ এর সহকারি পরিচালক হুমায়ুন কবির, রতন কুমার ধর, উপ-সহকারি পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দীন ও আবদুল মালেক। তদন্ত টিমের সহায়তাকারী ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি স্থানীয় তহশিলদার, স্থানীয় ইউ.পি সদস্য ও সাতকানিয়া থানা পুলিশের একটি টিম। অভিযুক্ত ইট ভাটাগুলোর মালিকরা হলেন মো. করিম (কেএমবি ব্রিক্স), মো. হাছান লিটন (বিবিসি ব্রিক্স), আবুল বশর (আরএমবি ব্রিক্স), কাজল কান্তি দাশ (এমবিএফ ব্রিক্স), নিজাম উদ্দীন কন্ট্রাক্টর (খাজা ব্রিক্স) ও মো. ওসমান (ডিবিএম ব্রিক্স)।

এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম-২ এর উপ-সহকারি পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, পাহাড়ের পাদদেশে ভাটা স্থাপন, পাহাড়ের মাটি দিয়ে ইট তৈরী ও বনের কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে চুড়ামনি-লটমনি এলাকায় দুদকের সহকারি পরিচালক হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে গতকাল বিকালে দুদকের একটি তদন্ত টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এতে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

তিনি আরো বলেন, দেশটা কি মগের মুল্লুক? দেশে কি আইন কানুন কিছুই নেই? এ ধরণের কার্যক্রম কোনভাবেই চলতে পারে না। বিষয়টি আমরা উর্ধ্বতনদের অবহিত করব। শীঘ্রই বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে। অন্যদিকে ইটভাটা আইন অমান্য করে ইট-ভাটা স্থাপন করায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মতামত