দৈনিক সাড়ে ৩ হাজার মরদেহ পোড়ানো হয়েছে চীনে, মৃত্যু ৫০ হাজার মানুষের!

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:    

করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ এ সংক্রমিত হয়ে চীনে কত মানুষের মৃত্যু হয়েছে তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। চীন সরকারের দেয়া হিসাবে বলা হয়েছে, দেশটিতে ৮১ হাজার ৫৫৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এরমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৬ হাজার ২৩৮ জন। মারা গেছেন ৩ হাজার ৩১২ জন। চিকিৎসাধীন ২ হাজার ৪ জন। সেই হিসাবে চীনে আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৯৩ শতাংশ।

তবে চীনের এ তথ্যের সঙ্গে একমত নন মার্কিন গোয়েন্দারা। তাদের দাবি, চীন তথ্য গোপন করেছে। তথ্য গোপানের মাধ্যমে চীন গোটা বিশ্বকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তিন জন গোয়েন্দা সম্প্রতি দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউজে একটি গোপন প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। সেখানে তারা এ দাবি করেছে বলে খবর প্রকাশ করেছে দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।
এদিকে চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ মারা গেছে। দেশটি মৃত ও আক্রান্ত লোকজনের বিষয়ে প্রকৃত তথ্য দেয়নি। শনিবার (০৪ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’–এর প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
চীনের সাময়িকী ‘ক্যাক্সিন’–এর তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, উহানের হানকাউ নামের একটি শ্মশানে প্রতিদিন ১৯ ঘণ্টা ধরে মৃতদেহ সৎকার হয়েছে। মাত্র দুদিনে সেখানে ৫ হাজার মানুষের মরদেহ পোড়ানো হয়।
চীনের সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারকারীরা যেসব ছবি প্রকাশ করে তা বিশ্লেষণ করে একটা হিসাব বের করা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, গত ২৩ মার্চ থেকে মৃতদেহ সৎকার শেষে উহানে শব বা মৃতদেহের ছাই ভরা ৩ হাজার ৫০০ কলস ফিরে এসেছে প্রতিদিন। এই হিসাবে ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’–এর প্রতিবেদনে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ১২ দিনে উহানে ৪২ হাজার মানুষের মৃত্যুর তথ্য উঠে এসেছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের প্রতিবেদনে রেডিও ফ্রি এশিয়ার বরাত দিয়ে বলা হয়, উহানে ৮৮টি চুল্লিতে দিন–রাত মৃতদেহ পোড়ানো হয়েছে। সেখানে ৪৮ হাজার ৮০০ মানুষকে পোড়ানো হয়েছে।

মতামত