করোনা মহামারিতে ডা. বিদ্যুতের মতো আর কেউ এগিয়ে আসেনি: সিভিল সার্জন

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:

করোনা মহামারিতে নানাজন নানাভাবে এগিয়েে এসেছেন, কেউ পিপিই নিয়ে, কেউ খাদ্যসামগ্রী নিয়ে, কেউ বা অর্থ নিয়ে; কিন্তু ফিল্ড হাসপাতালের কনসেপ্ট নিয়ে ডা. বিদ্যুত বড়ুয়ার মতো চট্টগ্রামে আর কেউ এগিয়ে আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি।

চট্টগ্রাম নগরের আকবর শাহ থানাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ছলিমপুর পাক্কার মাথা এলাকায় আলোচ্য ফিল্ড হাসপাতালের নির্মাণ কাজ ও অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে এক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি।

তিনি বলেন, আমি বলবো, নিঃসন্দেহে এটি একটি সেরা উদ্যোগ, জাতির যুগসন্ধিক্ষণে ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টা। ব্যস্ততার জন্য আমি যেতে না পারলেও হাসপাতালটির ব্যাপারে শুরু থেকেই আমি অবগত ছিলাম। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক স্যার পরিদর্শন করেছেন, সংশ্লিষ্ট অনেকেই ইতোমধ্যে সেখানে গেছেন। আমি নিজেই উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আজ সেটি দেখতে গিয়েছি। তাদের সাথে কথা বলেছি, তাদের আইডিয়া এবং সেবার ধরন, প্রক্রিয়া এসব জেনেছি। সত্যিই আমার অনেক ভালো লেগেছে। আমরা কেউ জানি না নিকট ভবিষ্যতে আমাদের ভাগ্যে কী আছে। আল্লাহ না করুক কোনো বড় সঙ্কট সৃষ্টি হলে সরকারি-বেসরকারি সেবাচেষ্টার পাশাপাশি এই ফিল্ড হাসপাতাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আমি মনে করি।

এক্ষেত্রে ফিল্ড হাসপাতালটিকে সবধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে জানিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, যে গতিতে কাজ এগোচ্ছে তাতে করে তারা বলছেন, ২০ এপ্রিল থেকে সেবা কার্য়ক্রম শুরু করা সম্ভব। ‍যদি তাই হয়, তার আগে তাদের সাথে আমাদের বসতে হবে। হাসপাতালে সংযোজিত লজিস্টিকস পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট স্বেচ্ছাসেবক, ডাক্তার-নার্সসহ এই হাসপাতালের সেবার সাথে নিয়োজিত সবার সাথে আমরা বসবো, কথা বলবো।

প্রসঙ্গত, ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করা চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার সন্তান ডা. বিদ্যুত বড়ুয়া ইউরোপে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ঝেঁকে বসা করোনা-মহামারিতে চিকিৎসাসেবা নিয়ে ভয়, সংশয় আর নানা অভিযোগের তীর যখন চারপাশে তখনই ডা. বিদ্যুত বড়ুয়া তার সাথে করোনাযুদ্ধে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। সেই স্ট্যাটাসের বিপরীতে পাওয়া উৎসাহ, অনুপ্রেরণা সর্বোপরি ভালোবাসার শক্তিকে উপজীব্য করে ডা. বিদ্যুত বড়ুয়া নেমে যান ফিল্ড হাসপতাল গড়তে। এরই মধ্যে তৈরি অবকাঠামোসমৃদ্ধ জায়গা দিতে এগিয়ে আসে নাভানা গ্রুপ। অর্থ সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসার আগ্রহ পোষণ করে সমাজের অগুণতি ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান।

ডা. বিদ্যুত বড়ুয়ার কনসেপ্ট – ’কাউকে আর্থিক সহযোগিতা করতে আমরা বলবো না। স্বেচ্ছায় কেউ এগিয়ে আসতে চাইলে, অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করতে চাইলে তাদের জন্য বারণ নেই। তবে এক লাখ মানুষের ১০০ টাকা করে দেওয়া অনুদানই আমাদের শক্তি।

বিদ্যুত বড়ুয়া বলেন, এটা হবে আমার-আপনার সবার হাসপাতাল। সেই জিনিসটাই চট্টগ্রামসহ সারাদেশের মানুষ বুঝতে পেরেছেন। আর বুঝতে পেরেছেন বলে মাত্র ৬ দিনে ফিল্ড হাসপাতাল সংক্রান্ত ফেসবুক গ্রুপে মেম্বার হয়েছেন এক লাখ মানুষ। তাদের মুষ্টিবদ্ধ চাঁদায় নাভানা গ্রুপের জায়গায় স্বপ্নের হাসপাতালটি নির্মাণে এগিয়ে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি বাকি কাজ সম্পন্ন করে আগামি ২০ এপ্রিল থেকে আমজনতার এই হসাপতাল থেকে চট্টগ্রামসহ দেশের করোনা রোগীদের আমরা সেবা দিতে পারবো। যুক্ত করেন ডা. বিদ্যুত বড়ুয়া।

মতামত