করোনা সংক্রমন ঠেকাতে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার পর লকডাউন লোহাগাড়া উপজেলা

আবদুল আউয়াল জনি, সিটিজি ভয়েস টিভি:

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৮ রোগী শনাক্তের পর এ ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে পার্শবর্তী লোহাগাড়া উপজেলা লকডাউন ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত ৯টা থেকে এ লকডাউন কার্যকর হয়েছে। এর আগে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ‘হটস্পট’ হিসেবে বিবেচনায়, করোনা ভাইরাসের ‘সোশ্যাল ট্রান্সমিশন’ এড়াতে বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন করা হয় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা। উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে এই নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসাইন।

লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ জাকের হোসাইন মাহমুদ জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে লকডাউন ঘোষণার পর পর থেকে লোহাগাড়া থানা পুলিশের পক্ষে থাকে মাইকিং করে এলাকাবাসীকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। লকডাউন চলাকালীন কেউ লোহাগাড়ায় প্রবেশ কিংবা বের হতে পারবেন না। কেউ লকডাউন অমান্য করে অপ্রয়োজনীয় ঘুরাঘুরি করলে কঠোর আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

লকডাউনের বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ হোসেন সিটিজি ভয়েস টিভিকে বলেন, করোনা ভাইরাস দ্রুত সংক্রমিত হওয়ায় এবং পাশের উপজেলা সাতকানিয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৮ রোগী শনাক্তের পর এ ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সাতকানিয়ার পর লোহাগাড়া উপজেলাও পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যেহেতু সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া পাশাপাশি উপজেলা এবং লোহাগাড়ার সঙ্গে কক্সবাজার জেলার সীমান্ত রয়েছে- তাই রাতে লোহাগাড়া উপজেলাকেও লকডাউন ঘোষণার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সকল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদেরকে তাদের ইউনিয়নের সকল প্রবেশপথ সমূহ বন্ধ করে দিতে বলা হয়েছে। লকডাউন চলাকালীন কেউ লোহাগাড়ায় প্রবেশ কিংবা বের হতে পারবেন না।

জেনেনিন লকডাউন চলার সময় চালু থাকবে যেসব পরিসেবাসমুহ:-

১) জরুরী পরিসেবা যেমন:- বিদ্যুৎ, ফায়ার সার্ভিস, পরিচ্ছন্নতা কাযক্রম, টেলিফোন এবং ইন্টারনেট ও ব্যাংকিং ইত্যাদি কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মী।

২) চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত এবং চিকিৎসা সরঞ্জামাদি, রোগী ও ঔষধ বহনকারী যানবাহন ও কর্মী।

৩) জরুরী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী, খাদ্য দ্রব্য, শিল্প পণ্য, শিশু খাদ্য এবং পশু খাদ্য পরিবহন কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মী।

৪) কৃষি পণ্য, সার, কীটনাশক, জ্বালানী ও সংবাদপত্র বহনকারী যানবাহন ও কর্মীরা লকডাউন পরিস্থিতিতে চলাচল করতে পারবেন।

মতামত