ফেসবুকে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মাধবদীতে মহিলা ইউপি সদস্যের সংবাদ সম্মেলন

মোঃ আল আমিন, নরসিংদী প্রতিনিধি:

১০ টাকা কেজি মূল্যের চালের কার্ড নিয়ে মহিলা ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচারের প্রতিবাদে রোববার ২৬ এপ্রিল মাধবদী প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ের হলরুমে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন পাইকারচর ইউনিয়নের ১,২ ও ৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ইয়াসমিন আক্তার।

সাংবাদিক সম্মেলনের পূর্বে ইয়াসমিন আক্তার সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি চক্র ফেসবুকে ১০ টাকা কেজি চালের কার্ড দেয়া নেয়া নিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আর আমি আপনাদের মাধ্যমে তা তুলে ধরতে চাই।

পরে ইয়াসমিন আক্তার তার লিখিত বক্তব্যে বলেন আমি পাইকারচর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, নরসিংদী সদর উপজেলা যুবলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন মাধবদী থানা শাখার একজন কর্মী। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী দেশের এই দুর্যোগ পরিস্থিতিতে আমি আমার সর্বস্ব দিয়ে গরিব মেহনতী সাধারন জনগনের পাশে থেকে সাহায্য সহযোগীতা করে আসছি। এমতাবস্থায় আমার রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য আমার প্রতিপক্ষ একটি মহল উঠেপড়ে লেগেছে।

গত ২১ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কিছু অনুসারিরা বিভিন্নভাবে আমার বিরোদ্ধে ষড়যন্ত্র করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। গত চার বছর আগে আমার সাথে মাইক মার্কা নিয়ে বিপুল ভোটে পরাজিত হন আমার প্রতিপক্ষ মোসা: মনোয়ারা বেগম। সামনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজ স্বার্থ হাসিলের উদেশ্যে তার স্বামী বিল্লাল হোসেন ও তার অনুসারী বালাপুর গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে রিপন হোসেন তাদের ভাড়াটিয়া লোকজন দিয়ে একটি মিথ্যে নাটকের ভিডিও করে রিপন তা তার ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে ভাইরাল করে। এছাড়াও গত ২৬ মার্চ আমার ভাইয়ের ফেসবুক মেসেঞ্জারে আমার বিরোদ্ধে মিথ্যে বাজে কথা বলে মন্তব্য করে। সেই সাথে মনোয়ারাও আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করে আসছে। ফেসবুকে আমার নামে মিথ্যে অপপ্রচারের বিষয়টি আমার নজরে আসলে আমি তাৎক্ষনিক ভাবে মাধবদী থানায় জানিয়ে একটি সাধারণ ডায়রী করে থাকি যার নং-৭১৬,তাং ২৪/০৪/২০২০ইং।

তিনি আরো বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি মাধবদী থানার সম্মানিত পুলিশ মহোদয়গণ তদন্ত করেছেন। সেখানে আমি উপযুক্ত সাক্ষী ও সর্বোচ্চ প্রমানাদী উপস্থিত করতে সক্ষম হই এবং তাদের সাক্ষীগণ ভূয়া বলে প্রমানিত হয়।

এসময় তিনি আরো বলেন, বিগত নির্বাচনে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিপুল ভোটে পরাজিত হয়। এখন তারা রাজনৈতিক ফায়দা নিতে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে উঠে-পড়ে লেগেছে। আমি জানি আমি কোন দুর্নিতির সাথে জড়িত না আমার প্রতিপক্ষ বিষয়টি নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করছে বলেও মন্তব্য করেন মহিলা ইউপি সদস্য ইয়াসমিন আক্তার।

এসময় তিনি এসব অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান। এবং তার নিজের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছেন।

পরে পাইকারচর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসেমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন এ ব্যাপারটি আমি শুনে তাদের ডেকে বলে দিয়েছি যেন এসব মিথ্যা না ছড়ায়। বিষয়টি ষড়যন্ত্র মুলক করা হয়েছে।

মতামত