আকাশ থেকে পুষ্পবৃষ্টির মাধ্যমে করোনা যোদ্ধাদের স্যালুট জানালেন ভারতীয় সেনারা

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:

এবার আকাশ থেকে পুষ্পবৃষ্টি করে সেই করোনা সৈনিকদের স্যালুট জানাতে শুরু করল ভারতীয় সেনা। দেশের প্রায় সব বড় শহরে হাসপাতালগুলির উপর পুষ্পবৃষ্টি শুরু করেছে ভারতীয় বিমানসেনার হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমানগুলি। সন্ধ্যার পর যুদ্ধজাহাজগুলি আলোয় সাজিয়ে কৃতজ্ঞতা জানাবে নৌসেনাও।

করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় এক্কেবারে সামনের সারিতে রয়েছেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। এ ছাড়াও মাঠে নেমেছেন পুলিশ-প্রশাসনের কর্তা-আধিকারিক-কর্মীরা। রয়েছেন সেনা জওয়ান এবং সাংবাদিকরাও। করোনাভাইরাসের এই যোদ্ধাদের অভিবাদন ও কৃতজ্ঞতা জানাতে এই পুষ্পবৃষ্টি-সহ অন্যান্য কর্মসূচি শুক্রবার ঘোষণা করেছিলেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) বিপিন রাওয়াত ও ভারতীয় সেনার তিন বাহিনীর প্রধানরা।

দিল্লির পুলিশ মেমোরিয়ালে তিন বাহিনীর প্রধান দেশ জুড়ে এই অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। সেই ঘোষণা অনুযায়ী ভারতের প্রায় সব শহরের আকাশে চক্কর কাটছে বিমানসেনার হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান। সুখোই-২০ এমসেআই, মিগ-২৯ ও জাগুয়ার যুদ্ধবিমানগুলি রাজধানীতে রাজপথে কুচকাওয়াজ করতে দেখা গিয়েছে। ৫০০ থেকে ১০০০ মিটার উপর থেকে ফুল ছড়িয়েছে এই যুদ্ধবিমানগুলি। এ ছাড়া সি-১৩০ হেলিকপ্টারও একই রুটে পুষ্পবর্ষণ করেছে। বিমানসেনার ওয়েস্টার্ন কমান্ড একই ভাবে আকাশ থেকে ফুল ছড়াবে দিল্লির গঙ্গারাম, রাজীব গাঁধী সুপার স্পেশালিটি, দীনদয়াল উপাধ্যায়-সহ প্রায় সব হাসপাতালের উপর।

মুম্বইয়ের আকাশেও একই ছবি। মেরিন ড্রাইভে আকাশে কুচকাওয়াজের পর কিং এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল হাসপাতাল, কস্তুরবা গাঁধী হাসপাতাল-সহ প্রায় সব সরকারি হাসপাতালের উপরেই পুষ্পবৃষ্টি হয়েছে। শ্রীনগরে ডাল লেক এবং ও চণ্ডীগড়ের সুকনা লেকেও ফুলবর্ষণ হয়েছে। এ ছাড়া দেশের প্রায় সর্বত্রই একই ভাবে পুষ্পবৃষ্টির ছবি দেখা গিয়েছে।

নৌবাহিনীর আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মুম্বইয়ের গেটওয়ে অব ইন্ডিয়ার কাছে সমুদ্রের উপকূলে পাঁচটি যুদ্ধজাহাজ সন্ধে সাড়ে সাতটা থেকে ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকবে। জাহাজের সাইরেন বাজিয়ে ও আলোর মালায় করোনাযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করবে ও কুর্নিশ করবে। স্লোগান ‘ইন্ডিয়া স্যালুটস করোনা ওয়ারিয়র্স’। এ ছাড়া গোয়ায় রানওয়ের উপরে মানববন্ধন কর্মসূচি করবে নৌসেনা। বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন নাভাল কমান্ডের দু’টি জাহাজ আলোকিত করা হবে সন্ধে সাড়ে সাতটায়।

গত ২২ মার্চ জনতা কার্ফুর দিন প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সন্ধ্যাবেলা হাততালি দিয়ে, থালা বাজিয়ে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করা চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, সাংবাদিকদের অভিবাদন জানিয়েছিল গোটা দেশ। তার পর পাঁচ এপ্রিল বারান্দায় বেরিয়ে মোমবাতি-প্রদীপ জ্বেলে একই ভাবে করোনা-যোদ্ধাদের উৎসাহ বাড়াতে আর্জি জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তাতেও সামিল হয়েছিলেন ভারতবাসী।

পন্থা আলাদা হলেও সেনার উদ্দেশ্যও একই। সেনার এই কর্মসূচি ঘোষণার পর শুক্রবারই প্রধানমন্ত্রী টুইটারে লিখেছিলেন, আমাদের সেনাবাহিনী সর্বদা দেশবাসীকে সুরক্ষিত রেখেছে। বিপর্যয়ের সময় তারা দেশবাসীকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। দেশকে করোনামুক্ত করতে যাঁরা লড়াই করছেন, তাঁদের এ বার অভিনব পন্থায় বিরাট ধন্যবাদ জানাবে ভারতীয় সেনা।

 

মতামত