প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করলো তারা, জেল খাটছে স্বজনরা

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:

আনিকা পনের বছরের কিশোরী ও আব্বাস আঠারো বছরের তরুণ। পাশাপাশি বাড়ি প্রতিদিনই দেখা-সাক্ষাৎ হয়। একসাথেই বেড়ে উঠা। তাই সম্পর্কটাও শুরু হয় কম বয়সেই।

কয়েক বছর ধরে চুটিয়ে প্রেম। অতপর পালিয়ে বিয়ে। কম বয়স ও স্থানীয় বিভিন্ন কারনে এ বিয়ে মানতে নারাজ মেয়ের পরিবার। ছেলের পরিবারও বয়সের কারণে এখন বিয়ে না হলেও সম্পর্ক ঠিকিয়ে রাখতে বদ্ধপরিকর।

দু’পক্ষেরমুখোমুখি অবস্থানের সাথে কিন্তু বাধ সাধে বয়সও। বয়সের থোরাই কেয়ার করছেনা কিশোরী আনিকা ও তরুণ আব্বাস। ঘটনাটি এখানেই থেমে নেই থানায় অভিযোগ দিয়ে কিশোরী মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করেছে পিতা।

মেয়ে প্রেমিককে ছাড়া ফিরে আসতে নারাজ। মোবাইল ফোনে সাফ জানিয়ে দেয় সে এখন বিবাহিত। স্বামীর সাথে ভালোই যাচ্ছে। একা ফিরবেনা। অগত্যা পিতা বাদী হয়ে অপহরণ মামলা রুজু করলেন টেকনাফ মডেল থানায় ।

প্রেমিক আব্বাসসহ ভাই, চাচা মিলে সাতজন জ্ঞাত ও কয়েকজন অজ্ঞাত আসামি করা হলো। পুলিশ বড় ভাই ফারুক ও চাচা আয়াছকে আটক করে জেলে পাঠালো। ঘটনাটি টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ মিস্ত্রী পাড়া গ্রামের। এ ঘটনায় গত ৩ মে মিস্ত্রী পাড়ার মৌলভী মো. আইয়ুব বাদী হয়ে আব্বাসকে প্রধান আসামি করে মোট সাত জনের বিরোদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সং/০৩) এর ৭/৩০ ধারায় মামলা রুজু করে।

এতে উল্লেখ করা হয়, মেয়ে ফারিহা আক্তার আনিকা স্কুলে যাতায়াত বন্ধ থাকার পর মাকে কাজে সহায়তা করে থাকতো। বাড়ির আশপাশে ও রাস্তাঘাটে একা পেয়ে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিত। মেয়ে এসব বিষয় তাকে জানায়।

এমন আচরণ না করার জন্য আব্বাসসহ অন্যান্য আসামিদের অবহিত করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আব্বাস অন্যান্য সহযোগিসহ ৬ এপ্রিল রাত ৮ টার সময় প্রাকৃতিক কাজে সাড়া দিতে বাইরে গেলে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে যায়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দিপক বিশ্বাস পরের দিন আব্বাসের চাচা আয়াছ ও বড় ভাই ফারুককে আটক করে আদালতে প্রেরণ করে। এ বিষয়ে পুলিশের এসআই দিপক বিশ্বাস বলেন, ভিকটিমকে উদ্ধারে চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে এ মামলার দু’জন আসামি আটক করা হয়েছে।

মামলার বাদী মৌলভী মো: আইয়ুব বলেন, অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে এভাবে বিয়ে দিতে পারি না। তাই উদ্ধারের জন্য মামলা দিয়েছি।

এদিকে মো: আব্বাসের পরিবার ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, কিশোরী আনিকার সাথে আব্বাসের প্রেমের সর্ম্পক এলাকায় ওপেন সিক্রেট। সবাই জানে। এই মেয়ে আগেও আরো কয়েকবার ছেলের ঘরে চলে আসে। সামনাসামনি ঘর হওয়ায় ছেলের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা মেয়েকে তাদের পরিবারে ফিরিয়ে দেয়। এবার কিন্তু মেয়ে এবং ছেলে কৌশল পাল্টে ফেলে। এরা এবার অন্যত্র পালিয়ে যায়।

মো: আব্বাসের পিতা রশিদ আহমদ বলেন, পাশের বাড়ির মেয়েটি আগেও কয়েকবার আমার ছেলেকে বিয়ে করতে চলে এসেছিলো। পাশাপাশি বাড়ি। পরস্পর আত্মীয় সবাই। দু’পরিবারের মধ্যে যাতে বিদ্যমান সম্পর্ক নষ্ট না সে জন্য মেয়েকে ফিরিয়ে দেয়। যা স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজল হকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অবগত রয়েছেন। এবার ছেলে মেয়ে দু’জনই আমাদের অজান্তে নিজেরাই লাপাত্তা হয়ে যায়।

কিন্তু সাজানো অপহরণ মামলায় আসামি করা হয় আমার ভাই, ছেলেদের। যা চরম অমানবিক।

মতামত