বিআইটিআইডিতে করোনা পজিটিভ আসলেও কক্সবাজার ল্যাবে নেগেটিভ লোহাগাড়ার ২৩ স্বাস্থ্যকর্মী

আবদুল আউয়াল জনি সিটিজি ভয়েস টিভি:

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকে রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে একযোগে করোনা আক্রান্ত হন লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেের ২৩ স্বাস্থ্যকর্মী। তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটস্থ বিআইটিআইডি’তে পাঠানো হলে রিপোর্টে সবার করোনা পজেটিভ আসে।

বিআইটিআইডি’র রিপোর্ট নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় চট্টগ্রাম সিভিল সার্জনের পরামর্শে একদিনের মাথায় আবারও সেই ২৩ জনের নমুনা পাঠানো হয় কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ এর ল্যাবে। অবশেষে মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাব থেকে ২৩ স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। কেটে যায় স্বাস্থ্যকর্মীদের করোনা আতংক এবং পরিবার-পরিজনের দুশ্চিন্তা। স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা।বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হানিফ।

ডা. মোহাম্মদ হানিফ জানান, করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে এ পর্যন্ত লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেের ২৩ স্বাস্থ্যকর্মীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটস্থ বিআইটিআইডি’তে পাঠানো হলে সেখান থেকে পাঠানো রিপোর্টে সবার করোনা পজেটিভ আসে। এ নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লে বিষয়টি সিভিল সার্জন মহোদয়ের সিদ্ধান্তক্রমে গত ১০ মে পুনরায় ২৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে পাঠানো হলে আল্লাহর অশেষ রহমতে মঙ্গলবার রাতে সেখান থেকে পাঠানো রিপোর্টে ২৩ স্বাস্থ্যকর্মীরই করোনা নেগেটিভ আসে। বাকি ৪ জনের পজেটিভ আসে।

তিনি আরো জানান, চট্টগ্রামের বিআইটিআইডিতে করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট সন্দেহ হলে আমরা কক্সবাজার মেডিকেল ল্যাবে ২৩ স্বাস্থ্যকর্মীর নমুনা পাঠাই। যারা তাদের সংস্পর্শে ছিল এদের রিপোর্টও করোনা নেগেটিভ। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবের রিপোর্টই আমাদের সবাইকে স্বস্তি ফিরিয়ে দিলো।

উল্লেখ্য ৩রা মে উক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটস্থ বিআইটিআইডি’তে পাঠানো হলেও নমুনা জটের কারণে ৬দিন পর ৯ই মে রিপোর্ট আসে ফলে এই রিপোর্ট নিয়ে কিছুটা অবিশ্বাস দেখা দেয় সংশ্লিষ্টদের মনে। অবশেষে চরম অস্থিরতা ও আতংক কাটিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেের স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঝে স্বস্তির নিশ্বাস ফিরে এসেছে।

এর আগে গত ২রা মে নমুনাজটে নাকাল চট্টগ্রাম বিআইটিআইডি ও ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনা পরীক্ষা না করে নমুনাজট এড়াতে চট্টগ্রামে করোনার হটস্পট হিসাবে চিহ্নিত সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার কভিট-১৯ করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার ফল দ্রুততম সময়ে পাওয়ার জন্য কক্সবাজারে পরিক্ষা করতে উদ্যোগ নেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

নমুনা জটের কারণে করোনার হটস্পট হিসাবে চিহ্নিত সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার নমুনা সংগ্রহ কমে আসে। বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নজরে এনে সাতকানিয়া ও লোহাগাডা উপজেলার নমুনাসমূহ কক্সবাজারে স্থাপিত পরীক্ষাকেন্দ্রে করার সিদ্ধান্ত প্রদানের অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া। এ প্রেক্ষিতে মহাপরিচালক সম্মতি জ্ঞাপন করে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য)কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। কক্সবাজারেও করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়লেও তা চট্টগ্রামের চেয়ে তুলনামূলক অনেক কম। তাই সাতকানিয়া-লোহাগাডার নমুনা কক্সবাজারে পরীক্ষা করানোর এ সিদ্ধান্তে এ দুই উপজেলাবাসী উপকৃত হয়। সেটার ফল ১২ই মে রাতে পেল লোহাগাড়াবাসী লোহাগাড়ার ২৩ স্বাস্থ্যকর্মীর রিপোর্ট নেগেটিভ আসার মধ্যদিয়ে।

মতামত