সাঈদী পুত্রের সাথে বৈঠক, রকি বড়ুয়ার সহযোগী যুবলীগ সদস্য শহীদ বহিষ্কার

আবদুল আউয়াল জনি, সিটিজি ভয়েস টিভি:

জামায়াত নেতা দেলওয়ার হোসেন সাঈদী পুত্র মাসুদ সাঈদী ও মাওলানা তারেক মনোয়ারের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে নিজের বৌদ্ধ বিহার ভাংচুর করে দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টার অভিযোগে অস্ত্র ও রক্ষিতাসহ চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশে র‌্যাবের হাতে আটক আলোচিত রকি বড়ুয়ার সহযোগী লোহাগাড়া উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শফিউল আজম শহীদকে লোহাগাড়া উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার রাতে লোহাগাড়া উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলে এলাহী আরজু, আবদুল হান্নান মোহাম্মদ ফারুক স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লোহাগাড়া উপজেলা যুবলীগের এক জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক দক্ষিণ জেলা যুবলীগের নির্দেশক্রমে জানানো যাচ্ছে, লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শফিউল আজম শহীদ যুদ্ধাপরাধে সাজাপ্রাপ্ত আসামি দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্রের সাথে গোপন বৈঠক, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ায়, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সংগঠন পরিপন্থী কাজ করায় লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী যুলীগের সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার ঘোষণা করা হলো। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শহীদের কোনো কার্যকলাপ দায়ভার যুবলীগ নেবে না।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ ও লালখান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে রকি বড়ুয়া ও সফিউল আজম শহীদসহ সাতজনকে আটক করে র‌্যাব-৭। তাদের নামে নগরীর পাঁচলাইশ থানা ও লোহাগাড়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মশিউর রহমান জুয়েল জানান, রকি বড়ুয়ার বিরুদ্ধে কিছুদিন ধরেই আমাদের কাছে অভিযোগ আসছিল। বিশেষ করে জামায়াত নেতার ছেলের সাথে বৈঠক করে তিনি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছিলেন। এমনকি দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সন্ত্রাসীদের মদদদাতা হিসেবেও চিহ্নিত এই রকি বড়ুয়া।

র‌্যাব অধিনায়ক আরো জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে ধরার জন্য র‌্যাবের একটি দল সোমবার রাতে নগরীর পাঁচলাইশ এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে রকি বড়ুয়া তিন তলা বাড়িটির ছাদ থেকে লাফ দেয়। ওই বাড়ি থেকে প্রথমে তার চার সহযোগীকে আটক করা হয়। কিন্তু রকি বড়ুয়াকে না পেয়ে র‌্যাব সদস্যরা হতাশ হয়ে যায়। পরবর্তীতে বাড়ির পাশের ড্রেনে রকি বড়ুয়াকে পড়ে থাকতে দেখে তারা। মূলত ছাদ থেকে লাফিয়ে পালাতে গিয়ে ড্রেনে পড়ে তার দু’পা ভেঙে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ওই বাসায় তল্লাশি করে পাওয়া যায় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, পিস্তলের গুলি এবং বিদেশি মদ।

এছাড়া রকি বড়ুয়ার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নগরীর লালখান বাজার এলাকার অপর একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় রকি বড়ুয়ার এক বান্ধবীকে। ওই বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিদেশি মদ এবং তার প্রতারণার নানা ধরনের নথি। এর মধ্যে বৌদ্ধ ভিক্ষুর কাপড়ও রয়েছে।

মতামত