বিপ্লব বড়ুয়ার উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চমেক হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা

কেটে গেল চট্টগ্রামের কোভিড আক্রান্ত রোগীর শয্যা সংকট।

আবদুল আউয়াল জনি, সিটিজি ভয়েস টিভি:

চট্টগ্রামের কোভিড রোগীর শয্যা সংকট কাটলো প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার উদ্যোগে, মিলেছে অনুমোদন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মিলবে কোভিড রোগীর সেবা, প্রস্তুত আছে আইসিইউসহ শয্যা। বিষয়টি সিটিজি ভয়েস টিভিকে নিশ্চিত করেছেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও করোনা বিষয়ক সমন্বয় সেলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক ডাক্তার আ ম ম মিনহাজুর রহমান।

শুরু থেকেই যথাযথ প্রস্তুতির অভাবে চট্টগ্রামের কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা সেবা নিয়ে শঙ্কা কাজ করেছে সবসময়ই, তবে সরকারের কিছু দ্রুত গ্রহণ করা সিদ্ধান্ত সেই শঙ্কার কালো মেঘ সরিয়ে দিয়ে আসছিল বারবার, যাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

ডাক্তার আ ম ম মিনহাজুর রহমান বলেন, নারায়নগঞ্জের পর সবচেয়ে বেশি কভিট-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী নিয়ে চট্টগ্রাম যখন করোনা’র আগ্রাসী ঢেউয়ে টালমাটাল, রোগী বাড়লে শয্যা সংখ্যা বাড়ছিলো না, সর্বত্র দেখা দিচ্ছিল শঙ্কার কালোছায়া, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল পারছিলনা কোভিড রোগীর ভার বইতে। ১৬ই মে দুপুর থেকেই সাধারণ শয্যার সংকটে বন্ধ নতুন রোগী ভর্তি।

বিআইটিআইডিতে তিনটি মাত্র শয্যা খালি আছে এ মূহুর্তে। গত ক’দিন ধরেই বলে আসছিলাম চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সর্বোচ্চ সক্ষমতা আছে কোভিড রোগী ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়ার, আইসিইউসহ শয্যা প্রস্তুত, প্রয়োজন ছিলো সরকারী অনুমোদনের।গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এ সংকট নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কালক্ষেপণ না করে চমেক হাসপাতালে কোভিড রোগী ভর্তির প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেয়ার জন্য তৎসময়ে উপস্থিত মূখ্য সচিবকে নির্দেশনা প্রদান করেন। ১৬ই মে শেষ বিকেলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সেই কাংখিত অনুমোদন প্রদান করে পত্র প্রেরণ করেছে। ১৭ই মে থেকে চমেক হাসপাতালে কোভিড-১৯ রোগীর পাশাপাশি নন কোভিড, সাধারণ রোগীদের স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবাও অব্যাহত থাকবে।

ডাক্তার মিনহাজুর রহমান আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, আজ এ সিদ্ধান্ত না পেলে চট্টগ্রামে কোভিড রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি বিড়ম্বনা এড়ানো ও চিকিৎসা সেবাপ্রাপ্তি বড় বেশি দুরূহ হয়ে পড়তো।

উল্লেখ্য, এর আগে ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান প্রধানমন্ত্রী বরাবর অনুরোধপত্র দেন । ‌করোনার চিকিৎসায় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে সেবা সম্প্রসারণের প্রশ্নে নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে প্রেরিত অনুরোধপত্রটির প্রস্তাবনায় একই ছাদের নিচে ‘মাল্টিডিসিপ্লিনারি চিকিৎসা’ প্রদানের গুরুত্ব উল্লেখ করা হয়।

এতে বলা হয়, হাসপাতালটির ৩০ শয্যার একটি ‘আইসোলেশন ইউনিট’ প্রস্তুত এবং আরও ১০০ শয্যা চালু করার মত প্রস্তুতি রয়েছে। পাঁচটি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনসহ কিডনি ও হৃদরোগীদের চিকিৎসারও প্রস্তুতি রয়েছে। ‌ সরকারি-বেসরকারি দায়িত্বশীলদের আশাবাদ, চমেক হাসপাতালেই পর্যায়ক্রমে অন্তত ৩০০ শয্যার করোনা সেবা সম্প্রসারণ সম্ভব। ‌

চট্টগ্রাম বিভাগের সবচেয়ে বৃহৎ ও কেন্দ্রীয় এই হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. হুমায়ুন কবির করোনা চিকিৎসা শুরুর অফিস আদেশ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘যত শিগগির সম্ভব করোনা রোগীর চিকিৎসা শুরু হবে । তবে রোগী ভর্তির মত পরিবেশ তৈরিতে প্রাথমিকভাবে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

চমেকে করোনা চিকিৎসা শুরুর ওই নির্দেশনা পত্রে কিডনি ও ক্যান্সারসহ অন্যসব রোগের চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে যাতে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয় এবং কোন রোগী যাতে হাসপাতাল থেকে ফিরে যেতে বাধ্য না হন, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।

মতামত