চট্টগ্রামের সংবাদকর্মীরা করোনা আতঙ্কে, আক্রান্ত ৭

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্কঃ

সব গণমাধ্যমকর্মীকে দায়িত্বের খাতিরে বাইরে বের হতে হয়।

পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চট্টগ্রামে মোট সাতজন সংবাদকর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন। এর মধ্যে পাঁচজনই টেলিভিশন সাংবাদিক। দায়িত্বের খাতিরে প্রায় সব গণমাধ্যমকর্মীকে বাইরে বের হতে হয়। এ কারণে করোনা আতঙ্ক ছড়িয়েছে গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যেও। এর মধ্যে অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে করোনার নমুনা পরীক্ষা করাতে দিয়েছেন।

সোমবার (১৮ মে) চট্টগ্রামে আরও তিন সাংবাদিকের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হল। এই তিনজনই দুটি বেসরকারি টেলিভিশনে কর্মরত। তারা হলেন চ্যানেল টোয়েন্টিফোর চট্টগ্রাম অফিসের স্টাফ রিপোর্টার জোবায়ের মঞ্জুর ও ক্যামেরাপারসন হারুনুর রশিদ। অপরজন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের ক্যামরাপার্সন মো. আলমগীর। এ নিয়ে চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত সাংবাদিকের সংখ্যা দাঁড়াল ৭ জনে।

এর আগে ১২ মে বার্তা সংস্থা ইউএনবির চট্টগ্রাম প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম শিল্পী চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের মধ্যে প্রথম করোনার শিকার হন। এরপর ১৩ই মে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় শনাক্ত হয় বিজয় টিভির সাতকানিয়া প্রতিনিধি নাসির উদ্দীনের। ১৭ মে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন চট্টগ্রাম অফিসের স্টাফ রিপোর্টার আহসানুল কবির রিটনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এরপর থেকে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন চট্টগ্রাম অফিসের অন্য কর্মীরা অফিসেই স্বেচ্ছা আইসোলেশনে রয়েছেন। সিভয়েস এর স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক মিনহাজ মুহী করোনা পজিটিভ এসেছে এরপর থেকেই তিনি আইসোলেশনে আছেন।

চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের স্টাফ রিপোর্টার জোবায়ের মঞ্জুর বলেন, ‘আমি আর আমার সহকর্মী ক্যামরাপার্সন হারুনুর রশিদের হালকা জ্বর ছিল। চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের আবাসিক সম্পাদক আমাদেরকে ছুটি দিয়ে বাসায় বিশ্রাম নিতে বলেন এবং নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন। সোমবার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসছে। হারুন আর আমি দুইজনই সুস্থ আছি। এখন শরীরে করোনার লক্ষণ নেই। অফিস থেকে স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী আইসোলেশন থাকার নির্দেশনা আছে। আমরা বাসায় আইসোলেশনে আছি।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের ক্যামরাপার্সন মো. আলমগীর বলেন, ‘মাসের প্রথম দিকে কিছুটা অসুস্থবোধ করলে ৮ মে থেকে অফিস আমাকে ছুটি দিয়েছে। আমার শরীরের করোনার কোন লক্ষণ নেই। কিন্তু নমুনা পরীক্ষা দেওয়ার পর রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। আমি বাসাতেই আইসোলেশনে আছি।’

চট্টগ্রাম আক্রান্ত ৭ সাংবাদিকের ৫জনই বাসায় আইসোলেশনে আছেন। কোন উপসর্গ না থাকলেও সেচ্ছায় সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে আছেন নাসির। সাইফুল ইসলাম শিল্পী সিটি গেইট সংলগ্ন করোনা ফিল্ড হসপিটালে আইসোলেশনে আছেন। রোববার তার স্ত্রীর শরীরেও করোনা শনাক্ত হয়। সোমবার থেকে তিনিও ফিল্ড হসপিটালে আইসোলেশনে আছেন।

মতামত