দাফন-কাফনে যখন স্বজনরা দূরে, তখন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাছে!

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে মৃতদের দাফন-কাফনে যখন স্বজনরা দূরে থাকছেন তখন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বগুড়া শাখার সদস্যরা এ মহতী কাজে ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে এসেছেন।

সর্বশেষ সোমবার রাতে তারা বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার শাকপালায় ঢাকায় করোনাভাইরাসে প্রাণ হারানো ডিএমপির এসআই মজিবুর রহমান তালুকদারের জানাজা ও লাশ দাফন করে।

বগুড়ায় এ নিয়ে তারা ঢাকায় মৃত দু’জন ও উপসর্গ নিয়ে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল আইসোলেশন ইউনিটে মৃত চারজনের লাশ দাফন করল।

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বগুড়া শাখার অর্গানাইজার মিজানুর রহমান জানান, করোনাভাইরাসে কেউ মারা গেলে তার জানাজা ও দাফনে বগুড়ায় বিভিন্ন পেশার ১৭ সদস্যের একটি স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করেন। সর্বশেষ ঢাকায় মৃত ডিএমপির এসআই মজিবুর রহমান তালুকদারের লাশ সোমবার রাতে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার শাকপালায় দাফন করা হয়।

এর আগে ঢাকার আইইডিসিআরের নির্দেশনা মোতাবেক সীমিত মুসল্লি নিয়ে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা, সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান, শাজাহানপুর থানার ওসি আজিম উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মিজানুর রহমান জানান, সোমবার রাতে তার টিমের ৬ সদস্য এসআই মজিবুর রহমানের জানাজা ও দাফনে অংশ নেন। এর আগে ঢাকায় করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত আনসার কমান্ডারকে তার বগুড়ার সোনাতলার বাড়ি এলাকায় দাফন করা হয়েছে। এ ছাড়া বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত চারজনকে নিজ নিজ এলাকায় দাফন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মৃতদেহ দাফনে স্বেচ্ছাসেবকদের ১৩ রকমের ও লাশের জন্য ২৭ রকমের সুরক্ষাসামগ্রী লাগে। এতে প্রতিটি দাফনে কম-বেশি ১০ হাজার টাকা খরচ পড়ে।

১৯ মে পর্যন্ত দেশে ১৬১ জনের মধ্যে ঢাকায় ১৩৯ জনের এবং ঢাকার বাইরে ২২ জনের দাফন সম্পন্ন করেছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। দাফন কার্যক্রমের পুরো ব্যয়ভারই বহন করছেন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। চাইলে যে কেউ এই মানবিক উদ্যোগের জন্য যোগাযোগ করে অংশীদার হতে পারেন।

মতামত