সকাল থেকেই ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত, পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যায় শুরু আম্পান তান্ডব

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:

সুপার সাইক্লোন আম্পান ভারতে উড়িষ্যার উপকূল থেকে এখনও ৪২০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

তবে এরই মধ্যে এই ঝড়ের প্রভাবে উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে ভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে প্রবল বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছে।

এদিকে কিছুটা ধীরগতি থাকার পর বাংলাদেশের  উপকূলের কাছাকাছি আসতে আসতে কিছুটা দিক পরিবর্তন করেছে সুপার সাইক্লোন ‘আম্পান’। তাই শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দীন আহমেদ আজ মঙ্গলবার রাতে  বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি কিছুটা দিক পরিবর্তন পরিবর্তন করলেও এর আঘাত বাংলাদেশের খুলনাসহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে একই সঙ্গে পড়তে পারে। কাল বুধবার সকাল থেকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের পরিবর্তে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে হবে। এই দুটি বন্দরের আশপাশের অঞ্চলও ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

ঝড়টির অবস্থান প্রসঙ্গে ভুবনেশ্বরের আবহাওয়া দফতরের কর্মকর্তা এইচআর বিশ্বাস এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, উড়িষ্যার পারাদ্বীপ থেকে সুপার সাইক্লোন আম্পান ৪২০ কিলোমিটার এবং দিঘা দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকা থেকে ৫৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। এদিকে বাংলাদেশের ক্ষেপুপাড়া থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে সাইক্লোনটি। সাইক্লোনটি ভয়ঙ্কর গতিতে পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যার দিকে এগিয়ে আসছে।

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া অফিসের ডিজি মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, উপকূলবর্তী জেলা জগৎসিংপুর, কেন্দ্রাপাড়া, ভদ্রক এবং বালাসোরে মঙ্গলবার থেকেই তুমুল ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

আম্পানের গতি ও ক্ষমতাকে ১৯৯৯ সালে উরিষ্যাকে লণ্ডভণ্ড করে দেয়া সাইক্লোনের সঙ্গে তুলনা করছেন ভারতের আবহাওয়াবিদরা।

এদিকে আজ বুধবার (২০ মে) ভোর ৬টায় মহাবিপদ সংকেত দেখানো হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান।

মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেন, বুধবার ভোর ৬টায় বাংলাদেশ উপকূল দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি প্রবেশ করবে। ওই সময়ে আর কাউকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া সম্ভব হবে না। আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। কোন জেলায় কতজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে তার জন্য কন্ট্রোল রুম থেকে জানছি।
তিনি আরো বলেন, এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো উপকূলবাসী যারা ঝুঁকিপূর্ণ ঘরবাড়িতে অবস্থান করছেন তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা। ২০ মে ভোর ৬টায় মহাবিপদ সংকেত দেখানো হবে। এ মহাবিপদ সংকেত দেখানোর পরে আর লোকজনকে বাড়িঘর থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার কোনো সুযোগ থাকবে না। ‘ঘূর্ণিঝড়টি বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানবে এবং বাংলাদেশ ভূ-খণ্ডের উপর দিয়ে অতিক্রম করবে।

মতামত