লকডাউন শিথিল ও গণপরিবহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ কি ভাবে সম্ভব?

বাসের সিট সংখ্যা কমিয়ে আনা যেমন তিন সিটে এখন দুইজন এবং ডবল সিটে একজন অর্থাৎ শতকরা হিসাবে ৪০% যাত্রী কম যাবে আর দাড়িয়ে যাবার সুযোগ এখন আর নেই। তাহলে সমস্যাটা সমাধান কি? ভাড়া বাড়ানোর, কিন্তু কথা হল ভাড়া একবার বাড়লে আর কমাবে না, এটি নিশ্চিত, তাহলে উপায় কি? উপায় সরকার কে এখন ৪০% ভর্তুকি দিতে হবে। এবং এটাই স্বাভাবিক কারণ আক্রান্ত হলে যখন চিকিৎসা ফ্রি, তাছাড়া চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে অনেক সুযোগ এখনও রেডি নাই বা দিতে পারবে না তাহলে রুগি বাড়ানো নিয়ন্ত্রণ করাই একমাত্র রাস্তা।

সেক্ষেত্রে গণপরিবহন সঠিকভাবে নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে মনে করি। আর সরকারের আইন শুধুমাত্র গণপরিবহন এর শ্রমিকরা মেনে চলে রাস্তায় গাড়ি নামায়নি। আর তাদের চাদা আদায় কারিরা তাদের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসতে দেখি নাই। সে কারণেই এখন থেকে আর কোন গণপরিবহনে চাদা তোলার প্রয়োজন নেই বা নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।

সরকারের উচিত হবে এটাকে শিল্প ঘোষণা করে আরো কিছু সার্বিক সুযোগ সুবিধা বাড়িয়ে একটি পরিকল্পিত গণপরিবহন বলয় তৈরি করার এখনই সময়। পরিবহন মালিক, গাড়ি চালক, গাড়ির পরিচালক বা সুপারভাইজার এবং হেলপার এর পরিবর্তে সহকারী করে একটি মটর শ্রমিক নীতিমালা করলে ভাল হবে। এবং এখন থেকে পর্যায়ক্রমে শিক্ষিত মানুষের এই পেশায় নিয়োজিত করে উন্নত প্রশিক্ষণ এর মাধ্যমে তাদের সক্ষমতা তৈরি করতে হবে।

আর এখন এই ক্রান্তিকালে করোনা ভাইরাসের প্রেক্ষিতে আমাদেরকে সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে সবাই কে এগিয়ে আসতে হবে।
গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে জিনিস পত্রের দাম যেমন নিয়ন্ত্রণ থাকবে সাধারণ মানুষের উপকার হবে আর পরিবহণ সেক্টরে একটি সৎ ইনকাম প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

আমি আশাবাদী এই করোনাভাইরাস ক্রান্তিকালে সরকার, মালিক পক্ষ এবং শ্রমিকদের এ ব্যাপারে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে করোনাভাইরাস মোকাবিলা করতে ভুমিকা পালন করতে পারেন।

সবাই এখন থেকে আরো বেশি সাবধানে পথ চলবেন। অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে গণপরিবহনে ভ্রমণ করবেন না। দেশকে করোনা মুক্ত করার পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় ও মৃত্যুর হাত থেকে দেশকে এবং নিজেকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসুন।

সবার জন্য নিরাপদ বাংলাদেশের প্রত্যাশা।

লেখকঃ সৈয়দ খায়রুল আলম, প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, নিরাপদ সড়ক ও রেলপথ বাস্তবায়ন পরিষদ।

কলাম ও মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখা সমুহ সম্পুর্ন লেখকের ব্যাক্তিগত মত, এর সাথে সিটিজি ভয়েস টিভি কতৃপক্ষের কোন সম্পৃক্ততা নেই।

মতামত