করোনা আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসা করাতে পারলেননা স্বয়ং বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক !

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:

বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে বৈশ্বিক মহামারী কভিট-১৯ ভাইরাসে দেশের আক্রান্ত সাধারণ মানুষেরা চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হচ্ছে, করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকেই এমন অহরহ অভিযোগ থাকলেও সেসব অস্বীকার করে আসছিল অভিযুক্ত হাসপাতাল এবং সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। এবার দৃশ্যমান হল চিকিৎসা ব্যাবস্থার এসব সমস্যা। করোনা আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসা করাতে না পেরে চট্টগ্রাম ছাড়তে বাধ্য হলেন স্বয়ং বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাক্তার হাসান শাহরিয়ার কবির! তিনিও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। শুক্রবার রাতে তিনি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসেন এবং তাঁর মাকে আনোয়ার খান মডার্ণ হাসপাতালে ভর্তি করান।

ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির এবং তা মা রাজিয়া কবির দুজনেই করোনা আক্রান্ত। পুরো চট্টগ্রাম বিভাগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের যিনি হর্তাকর্তা, স্বয়ং তিনি এবং তার পরিবার পেলেন না যথাযথ চিকিৎসা। এ নিয়ে চট্টগ্রামে চলছে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা। তাদের যদি এ দুরবস্থা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা, সে প্রশ্ন এখন চট্টগ্রামের সব মানুষের।

গত ২৮ মে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির এবং তা মা রাজিয়া কবির দুজনেরই করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। মায়ের করোনা রিপোর্ট পজেটিভ আসার পর বিপাকে পড়তে হয় ডা. শাহরিয়ারকে। কারণ তার মা আগে থেকেই অসুস্থ। দুদিন পরপর কিডনি ডায়ালাইসিস করতে হয়। করোনা পজেটিভ হওয়ার পর চট্টগ্রামের কোনো হাসপাতাল ডায়ালাসিস করতে রাজি হয়নি। চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বী বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চেষ্টা করেও স্বাস্থ্য পরিচালকের মায়ের ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হন। কোন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই রাজি করাতে পারেন নি। সবাই সাফ জানিয়েছে, করোনা আক্রান্ত রোগীর কিডনি ডায়ালাইসিস ঝুঁকিপূর্ণ, এতে ওই হাসপাতালের অন্য রোগীরাও আক্রান্ত হবে। করোনা ডেডিকেটেড কোন হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করার পরামর্শ দেন সবাই। উপায়ন্তর না দেখে শুক্রবার রাতে অসুস্থ মাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ছাড়েন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শাহরিয়ার। শনিবার সকালে মাকে ভর্তি করান ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ণ হাসপাতালে।

এ ব্যাপারে ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, চট্টগ্রামে ডায়ালাইসিস সুবিধা সংবলিত সব হাসপাতালে সিভিল সার্জনের মাধ্যমে চেষ্টা করা হয়েছিলো। কিন্তু ঝুঁকির কথা বলে কেউ চিকিৎসা দিতে রাজি হয়নি। করোনা-আক্রান্ত মায়ের কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম ছাড়তেই বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তিনি।

মতামত