ছুরিকাঘাতে নিহত জাকারিয়া এসএসসি পরীক্ষায় ৪.৬০ পেয়েও কিন্তু স্বজনদের চোখে জল

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:

এসএসসি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় এনসিএম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৪.৬০ পেয়েছে জাকারিয়া হোসেন। কিন্তু নিজের শিক্ষা জীবনের এ অর্জন কখনো আর জানা হবে না জাকারিয়ার। কারণ সে গত ২১ মে রাতে খুন হয়েছে। টাকা চাইতে গিয়ে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নিভে গেছে তার জীবনপ্রদীপ। সে দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের আরেঙ্গাবাদ গ্রামের সালাহ উদ্দিনের ছেলে।

জাকারিয়া হোসেন উপজেলার দক্ষিণভাগ এনসিএম উচ্চ বিদ্যালয় হতে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষা দিয়েছিল। রবিবার (৩১ মে) এসএসসি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে জাকারিয়া হোসেন জিপিএ-৪.৬০ পেয়েছেন। দুপুরে এমন খবর তার বাড়িতে পৌঁছে।

কিন্তু সংবাদটি তার স্বজনদের আনন্দের বদলে ঝরিয়েছে অশ্রু। পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আরেঙ্গাবাদ গ্রামের সালাহ উদ্দিন তাঁর বাড়ির পাশে একটি টং দোকানে পান-সিগারেট ও কাঁচামালের ব্যবসা করেন।

গত ২১ মে দুপুরে তাঁর ছেলে এসএসসি পরীক্ষার ফলপ্রার্থী জাকারিয়া হোসেন বাবার বদলে দোকানে বসেছিলেন। এসময় প্রতিবেশী তোতা মিয়া বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার কথা বলে সিগারেটসহ ৮৫ টাকার মালামাল কিনে নেন। বিকেল পর্যন্ত তোতা মিয়া পাওনা টাকা পরিশোধ করেননি।

এদিকে রাত ৮টার দিকে জাকারিয়া হোসেন দোকানের পাওনা টাকা চাইতে তোতা মিয়ার বাড়িতে যায়। তোতা মিয়া টাকা নেই বলে তাঁকে বিদায় করার চেষ্টা করেন। কিন্তু টাকা না দিলে বাবা তাঁকে বকাঝকা করবেন জানিয়ে জাকারিয়া বারবার টাকা চাইছিলেন। তখন তোতা মিয়ার ছেলে প্রবাসফেরত আজিম উদ্দিন (৩৫) তাঁর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।

এক পর্যায়ে আজিম উদ্দিন জাকারিয়াকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে পার্শ্ববর্তী জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরই আজিম উদ্দিন গা ঢাকা দেন। নির্মম এ ঘটনায় মামলার প্রায় ১০ দিন পার হলেও খুনিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে পর দিন তার সহপাঠীরা দক্ষিণভাগ বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

আলাপকালে নিহত জাকারিয়ার বাবা সালাহ উদ্দিন অশ্রু সজল নয়নে বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল জানার আগেই আমার ছেলেটি নির্মমভাবে খুন হয়ে গেল। ছেলে পাস করেছে এটা শোনেছি। মনে আনন্দ নেই। ছেলে তো কোনোদিন জানবে না সে পাস করেছে। ঘটনার ১০ দিন পরও আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। একটাই দাবি পুলিশ দ্রুত ছেলের খুনিকে যেন গ্রেপ্তার করতে পারে।’

মতামত