চট্টগ্রামে অপহরণের ১৪ দিন পর ৭ম শ্রেণির অপহৃত শিক্ষার্থী উদ্ধার, বখাটে গ্রেপ্তার

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:

বিয়ের প্রলোভনে ৭ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ভাগিয়ে নেয়ার অভিযোগে নগরীর পাথরঘাটা এলাকার একটি বাসা থেকে এক বখাটেকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।

অপহরণের ১৪ দিন পর মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বহদ্দারহাট থেকে আব্দুর শুক্কুর জনি নামের ওই বখাটেকে গ্রেপ্তার করে ভিকটিমকেও উদ্ধার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।

এর আগে ৭ম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে ভাগিয়ে নেয়ার অভিযোগে মেয়েটির মা গত ১৩ অক্টোবর কোতোয়ালী থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেন। পরদিন ওই ডায়েরির পরিপ্রেক্ষিতে ফিরিঙ্গীবাজারের মরহুম দুধু মিয়ার ছেলে আব্দুর শুক্কুর জনিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

জানা যায়, নগরীর পাথরঘাটা মেনেকা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ওই শিক্ষার্থী পাথরঘাটায় মায়ের সাথে বসবাস করতেন । শিক্ষার্থীর মা নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকুরি করেন। দীর্ঘদিন থেকে শিক্ষার্থীর মা চাকুরিতে থাকার সুবাদে ওই বখাটে শিক্ষার্থীটিকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে রাজি না হলে শিক্ষার্থীর মা চাকুরিতে গেলে গত ১৩ অক্টোবর বখাটে আব্দুর শুক্কুর জনি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে বাসা থেকে বের করে নিয়ে যায়। শিক্ষার্থীর মা ওইদিন চাকুরি থেকে এসে তাকে না পেয়ে থানায় ডায়েরি ও পরদিন (১৪ অক্টোবর) মামলা করেন। মামলায় আব্দুর শুক্কুর জনিকে আসামি করা হয়। পরে মামলাটির তদন্ত ভার দেয়া হয় কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক পলাশকে।

অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে তার মা পাগলের মত দিকবিদিক ছুটাছুটি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর মা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বখাটে আবদুর শুক্কুর জনির এক বন্ধুর সাথে পরিচিত হন। পরে সে বন্ধু শিক্ষার্থীর মাকে আশ্বস্ত করে মঙ্গলবার শুক্কুরকে কৌশলে বহদ্দারহাট নিয়ে আসার। এর আগ থেকে সকালে সবাই শুক্কুরের অপেক্ষায় বসে থাকে। দুপুর দুইটার দিকে শুক্কুর মিয়া বহদ্দারহাট উপস্থিত হলে এলাকার লোকজন গণধোলাই দিয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করে।

কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহসিন জানান শিক্ষার্থীর মায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বখাটে আবদুর শুক্কুর জনিকে গ্রেফতারপূর্বক আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মতামত