২৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ লোহাগাড়ার কথিত সাংবাদিক হেলাল তার ভাইসহ ৩ জন আটক

সিটিজি ভয়েস টিভি ডেস্ক:

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার কথিত সাংবাদিক পরিচয় দানকারী মাদক ব্যাবসায়ী মো: হেলাল উদ্দিন (২৩) তার ছোট ভাই বেলাল উদ্দিনসহ তিন জন মোটর সাইকেল যোগে ইয়াবা পাচার কালে চকরিয়ার হারবাং এলাকায় র‍্যাব-৭ এর অভিযানে আটক হয়েছে। এ সময় পাচার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোটর সাইকের জব্দ করা হয়েছে।

ইয়াবাসহ আটক হেলাল দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে সাংবাদিক দাবী হরে আসছিল। কখনো অনলাইন টিভির প্রতিনিধি আবার কখনো বিভিন্ন ভুঁইফুড় পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে দাবী করত।আটক মো: হেলাল উদ্দিন আইয়ান দৈনিক আজকের বসুন্ধরা পত্রিকার দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ও তার ছোট ভাই বেলাল উদ্দিন কক্সবাজার জেলার বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় প্রদান করত। দীর্ঘদিন ধরে হেলাল লোহাগাড়ায় নিজেকে সাংবাদিক দাবী করে আসছিল। দৈনিক আজকের বসুন্ধরা পত্রিকার আইডি কার্ড তার ছোট ভাই বেলাল উদ্দিনের গলায় পড়িয়ে দেওয়ার একটি ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) দুপুর তিনটার দিকে চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের হারবাং ইউনিয়নস্থ চৌধুরী নূর ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহাসড়কের উপর একটি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে গাড়ি তল্লাশি শুরু করে র‌্যাব। এ সময় কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের অভিমুখি তিনটি মোটরসাইকেলের গতিবিধি সন্দেহ হলে র‌্যাব সদস্যরা তাদের থামানোর সংকেত দেন। কিন্তু তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে র‌্যাব সদস্যরা ধাওয়া দিয়ে তাদের আটক করে।

আটককৃতরা হলেন- চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর উত্তর হরিণা (চৌধুরী পাড়া) গ্রামের আবুল কাশেম প্রকাশ মাইক কালুর দুই ছেলে মো. হেলাল উদ্দিন (২৩), মো. বেলাল উদ্দিন (২১) ও চরম্বা ইউনিয়নের আব্দুল বারীর ছেলে নুরুল আমিন (৩৩)।

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান জানান, আটককৃত ব্যক্তিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে মোটরসাইকেলের তেলের ট্যাংকের ভিতর ও নিজ হেফাজতে ইয়াবা থাকার কথা স্বীকার করে। পরে বিশেষ কায়দায় রক্ষিত অবস্থায় থেকে ২৪,৪৫৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত তিনটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ২২ লক্ষ ২৭ হাজার ৫০০ টাকা বলেও জানান তিনি।

আটককৃতরা আরো জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে পরবর্তীতে বিভিন্ন কৌশলে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবনকারীদের নিকট বিক্রয় করে আসছিল।

এর আগেও বেলাল ফেনী জেলা ডিবির হাতে ইয়াবাসহ আটক হয়ে দীর্ঘদিন কারাবাসের পর কয়েকমাস আগে জেল থেকে জামিনে বের হয়ে আবারো পুরোদমে বড় ভাইকে সাথে নিয়ে ইয়াবা ব্যবসা রমরমা চালিয়ে যাচ্ছিল। অবশেষে র‍্যাবের হাতে আটক হয়।

এবিষয়ে জানতে চাইলে লোহাগাড়া সাংবাদিক ফোরাম এর সভাপতি এম এম আহমদ মনির বলেন, মাদক পাচারকারী, মাদক ব্যাবসায়ী ও দূবৃত্বরা সাংবাদিক পরিচয় প্রদানের জন্য টাকার বিনিময়ে অখ্যাত পত্রিকা ও বিভিন্ন অনলাইন টিভির কার্ড সংগ্রহ করার মাধ্যমে তাদের প্রতারণার প্রথম ধাপ পার করছে এরপর জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন সাংবাদিক নামধারী টাউটদের সাথে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে জাহির করে এরপরই মুলত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়, এসব প্রতিরোধ করতে হলে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে এবং মুলধারার গণমাধ্যমে কর্মরত সংবাদকর্মীদের এক হয়ে ওদের প্রতিরোধ করতে হবে।

মতামত