চট্টগ্রামে মা-মেয়ের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে গ্ৰেফতার দু’জন

এম এ হোসাইন নিউজ ডেস্কঃ

চট্টগ্রামে মা ও মেয়ের পোশাক পাল্টানোর সময় ভিডিও ধারণ করে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে পাঠালেন আদিত্য ও অভিষেক, তাদের দাবি ৯হাজার টাকা দিতে হবে তাদের, যদি টাকা দেয়া না হয় তাহলে সেই ভিডিওগুলো বিভিন্ন পর্নো সাইটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয় তারা।

জানা যায় কলেজপড়ুয়া মেয়ে ও তাঁর মা পোশাক পাল্টানোর সময় জানালা দিয়ে আড়ি পেতে থেকে ভিডিও ধারণ করে আদিত্য ও অভিষেক, এরপর ফেইক আইডি দিয়ে ওই কলেজ শিক্ষার্থীর হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে পাঠায় সেই আপত্তিকর ভিডিও।  শুধু তাই নয়, ভিডিওগুলো বিভিন্ন জনের মেসেঞ্জারেও পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার (৭ এপ্রিল) সকালে প্রবর্তক সংঘের পাহাাড় ও নন্দনকানন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্ৰেফতার করেন কাউন্টার টেরোরিজমের একটি দল।

গ্রেফতারকৃত দুইজন হলেন, কোতোয়ালি থানার কবি কাজী নজরুল ইসলাম রোডের মৃত টিংকু সেন শর্মার ছেলে অভিষেক সেন শর্মা (১৯) এবং কোতোয়ালীর থানার মহিম হেরিটেজ এলাকার সমর বড়ুয়ার ছেলে আদিত্য বড়ুয়া (১৮) তাঁরা দুইজন আপন খালাতো ভাই। এদের মধ্যে অভিষেক চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির বিবিএর শিক্ষার্থী এবং আদিত্য সেন্টপ্লাসিড স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসির শিক্ষার্থী।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ রাতে কলেজ শিক্ষার্থী এবং তাঁর মায়ের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে এবং হোয়াটস অ্যাপে বাসায় পোশাক পাল্টানোর ভিডিও পাঠায় অভিষেক। ছাত্রী এবং তাঁর মা অভিষেকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সে জানায়, এ ধরনের আরও ভিডিও সে বিভিন্নজনের ম্যাসেঞ্জারে পাঠিয়েছে। নয় হাজার টাকা না দিলে সেগুলো পর্ণোসাইটে আপলোড করে দেয়া হবে। এরপর উপায় না দেখে ভুক্তভোগী মা-মেয়ে বিষয়টি কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট এবং পাঁচলাইশ থানাকে জানান।

সিমএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) আসিফ মহিউদ্দীন বলেন, এক কলেজ শিক্ষার্থী ও তাঁর মায়ের আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের দায়ে দুইজন শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারি, প্রবর্তক সংঘের পাহাড়ের প্রহরীর ছেলে এই আপত্তিকর ভিডিও করে অভিষেককে দিয়েছে। অভিষেক তাঁর খালাতো ভাই আদিত্যকে দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘আদিত্য ভিন্ন নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে সেগুলো কয়েকজন বন্ধুর ম্যাসেঞ্জারে দেয় এবং পর্ণসাইটে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। আটক দুজনের বিরুদ্ধে পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে-১২ এর বিভিন্ন ধারায় পাঁচলাইশ থানায় মামলা করা হয়েছে।

 

মতামত